বাংলাদেশের ১০টি বিখ্যাত হিন্দু মন্দির | Top 10 Hindu Temples in Bangladesh

সকালের প্রথম আলো যখন গঙ্গা, পদ্মা আর মেঘনার ঢেউয়ে ঝিলিক দেয়… তখনই শুরু হয় সনাতন ধর্মের প্রাচীন মন্ত্রধ্বনি। হাজার বছরের ঐতিহ্যে মোড়ানো এই বাংলার মাটিতে এখনো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য দেবালয়, যা শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়! এগুলো আমাদের বিশ্বাস, আমাদের আত্মার অংশ। আজ আমরা আপনাকে নিয়ে যাব বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা ১০টি বৃহত্তম ও আকর্ষণীয় হিন্দু মন্দিরের পবিত্র যাত্রায়। তাই পোস্টটি এড়িয়ে না যাওয়ার অনুরোধ রইল।”


বাংলাদেশের ১০টি বিখ্যাত হিন্দু মন্দির

নিচে আমরা বাংলাদেশের কিছু ইতিহ্যসিক এবং খুবই গুরুত্বপূর্ন তীর্থস্থান এবং মন্দির নিয়ে আলোচনো করবো। আসলে বাংলাদেশের এত্ত এত্ত মন্দিরের ভিতর শীর্ষ ১০ বের করা খুবই কঠিন। তরপরও চেষ্ট করেছি সব দিক থেকে বিবেচনা করে বাংলাদেশের ১০টি বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরে তালিকা করতে।


শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির

১. শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির: শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির বা স্বামীবাগ ইসকন মন্দির ঢাকা।  বর্তমানে বাংলাদেশে এটিই হতে যাচ্ছে এক মাএ ব্যায় বহুল এবং অকর্শনীয় দৃষ্টিনন্দন মন্দির। যা স্বামিবাগ ইসকন মন্দির বা শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ নামেও পরিচিত হবে।  এটি ঢাকার স্বামীবাগে অবস্থিত। বর্তমানে এই মন্দিরটির কাজ প্রায় শেষের দিকে।  

  • ঠিকানা: স্বামীবাগ, গেন্ডারিয়া, ঢাকা, বাংলাদেশ।
ঢাকেশ্বরী মন্দির

২. বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দির: যা প্রায় আট শতক আগে বল্লাল সেন ১২০০ শতাব্দীতে মুন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটা বাংলাদেশের জাতিয় মন্দির হিসেবে প্রতিষ্ঠিত যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। এটি ঢাকার সব থেকে প্রচিন মুন্দির গুলোর একটি। অনেককেই মনে করেন ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকেই নাকি ঢাকা শব্দের উৎপত্তি। দুর্গাপূজার সময় এখানে হাজারো ভক্ত সমবেত হয়ে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। ঢাকেশ্বরীর আঙিনায় পা রাখলেই ভক্তি আর আধ্যাত্মিকতার আবেশে মন ভরে ওঠে।

  • ঠিকানা: ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, পলাশী, লালবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির চট্রগ্রাম

৩. ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির চট্রগ্রাম: এটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যায়বহুল এবং শ্লৈপিক কারুকার্য নবনির্মীত ৯টি গুঞ্জ বিশিষ্ট  ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির । প্রবেশপথে মন্দিরের গায়ে অর্জনকে শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরুপ দর্শনের রেপ্লিকা দেখা যায়। রাজস্থানের মারকাটা মার্বেল দিয়ৈ নির্মিত হয়েছে পুরো মন্দিরটি। দরজা জানলার কাঠ সংগ্রহ করা হয়েছে অফ্রিকা এবং মায়ানমার থেকে। তিন তলা বিশিষ্ট দৃষ্টি নন্দন এই মুন্দিরের নকশা করেছেন ভারতের স্থাপত্যবিদ পুন্দদিক বিদ্যাদাস ব্রম্মচারী। এই মুন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শিব মন্দির। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে মন্দিরটি নির্মান করা হয়েছে।

  • ঠিকানা: ইনফ্রন্ট অফ আফমি প্লাজা, প্রবর্তক সার্কেল, ব্যাযিদ বোস্তামী রোড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

কাদিপুর শিববাড়ি মন্দির মেীলভীবাজার

৪. কাদিপুর শিববাড়ি মন্দির মেীলভীবাজার: কারুকার্যময় স্থাপর্ত শিল্পের অপরূপ নিদর্শন বাংলাদেশের কাদিপুর শিববাড়ি মন্দির। এটি মেীলভিবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় কাদিপুরো অবস্থিত। বাংলাদেশেল অন্যতম সুন্দর ও অকর্ষনীয় মন্দির। এই মন্দিরটি কাদিপুর শিববাড়ি নামেও পরিচিত। অত্যান্ত সুন্দর এবং কারুকার্যময় এই স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরটি হিন্দুদের জন্য একটি পবিএ স্থান। এই মন্দিরে অধিস্থিত রয়েছে মা দূর্গা। 

  • ঠিকানা: কুলাউড়া, মৌলভীবাজার, বাংলাদেশ।

যশোরেশ্বরী কালী মন্দির

৫. যশোরেশ্বরী কালী মন্দির: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালী মন্দির ৫১টি শক্তিপীঠের একটি এবং সনাতন ঐতিহ্যে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বলা হয়, এখানে সতীদেবীর হাতের তালু পতিত হয়েছিল। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এখানে প্রার্থনা করলে মা কালী সব বিপদ দূর করে দেন। বিশেষ করে কালীপূজার সময় মন্দির প্রাঙ্গণ আলো আর ভক্তির স্রোতে ভরে ওঠে।

  • ঠিকানা: ইশ্বরিপুর গ্রাম, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ।

কান্তজিউ মন্দির

৬. কান্তজিউ মন্দির: দিনাজপুরের দেবীপুরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর টেরাকোটা মন্দিরগুলোর একটি। ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে মহারাজা প্রণনাথ শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে এই মন্দির নির্মাণ করেন । মন্দিরের প্রতিটি ইটে খোদাই করা হয়েছে কৃষ্ণলীলার দৃশ্য, যা দেখে মনে হয় ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

  • ঠিকানা: কান্তনগর, দিনাজপুর সদর উপজেলা, দিনাজপুর জেলা, বাংলাদেশ।

রমনা কালি মুন্দির

৭. রমনা কালি মুন্দির: বাংলাদেশের একটি প্রচিন মন্দির। ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত মন্দির সমূহের মধ্যে এটি অন্যতম ছিল। যা রমনা কালি নামেও পরিচিত। এটি প্রায় এক হাজারের বেশি পুরাতন বলেও বিশ্বাস করা হয়। ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনারা মুন্দিরটি ভেঙে ফেলেছিল। ভারত সরকারের অর্থয়নে পরবির্ততে মন্দিরটি পুননির্মান করা হয়। মন্দিরের চুরার বর্তমান উচ্চাতা প্রায় ৯৬ ফুট। 

  • ঠিকানা: ৯-১০, ওল্ড ময়মনসিংহ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।

শ্রী শ্রী মঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির

৮. শ্রী শ্রী মঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির: দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত শ্রী শ্রী মঙ্গলেশ্বরী কালী মন্দির মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নবনির্মিত এক অসাধারণ মন্দির। পুরো মন্দির জুড়ে লাল ও সাদা রঙের মেলবন্ধন, আর প্রতিটি কারুকার্যে ফুটে উঠেছে অনন্য নকশা ও সূক্ষ্ম শিল্পকর্মের ছাপ। এখানে এসে ভক্তরা অনুভব করেন, যেন দেবী কালী স্বয়ং আশীর্বাদ দিচ্ছেন তাঁদের।”  মন্দিরটি দেখলেই মনে হয় রক্ত জবা ফুটে উঠছে। এই মুন্দির নির্মানে ব্যায় হয়েছিল প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। 

  • ঠিকানা: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, বাংলাদেশ।

সীতাকুণ্ড মন্দির

৯. সীতাকুণ্ড: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চূড়ান্ত শিখরে অবস্থিত এই মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত একটি শক্তিপীঠ। পবিত্র গ্রন্থ অনুযায়ী, এখানেই সতীদেবীর দক্ষিণ হস্তান্ত পতিত হয়েছিল। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের অপরূপ দৃশ্য দেখলে মনে হয় যেন স্বর্গে উঠে এসেছি। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠতে শত শত ধাপ পার করতে হয়, কিন্তু শিবলিঙ্গের সামনে দাঁড়ালে সমস্ত কষ্ট মিলিয়ে যায়।

  • ঠিকানা: চন্দ্রনাথ হিল, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।

বারদী লোকনাথ ব্রম্মচারীর আশ্রম

১০. বারদী লোকনাথ ব্রম্মচারীর আশ্রম: নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার বারদীতে অবস্থিত এই আশ্রম হিন্দুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থভূমি। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দক্ষিণের উঠোনে রয়েছে শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর সমাধিস্থল, যার পাশেই একটি পুকুরে স্থাপন করা হয়েছে ভগবান শিবের মূর্তি। এখানে এসে ভক্তরা মনে করেন, বাবা লোকনাথ এখনো তাঁদের প্রার্থনা শুনছেন।

  • ঠিকানা: বারদী ইউনিয়ন, সোনারগাঁও উপজেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ।

সমাপ্তি ন্যারেশন:
বাংলাদেশের এই ১০টি মন্দির শুধু স্থাপত্যের জন্য নয়, ভক্তির গভীরতার জন্যও অনন্য। এগুলো আমাদের সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভক্তির আলো ছড়িয়ে দেবে। জয় সনাতন ধর্ম। জয় মা দূর্গা। হরে কৃষ্ণ 🙏


Leave a Reply