হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ করার নিয়ম ও মাহাত্ম্য

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র  জপের মাহাত্ম্য 

এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের জন্য হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ করা অপরিহার্য। এই মালা জপের মাধ্যমে প্রত্যেকটি মানুষের  মন এবং জীবন পরিবর্তন হয়। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এই হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ করার মাধ্যমে সবাইকে ধর্মের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। শ্রী হরি দাস ঠাকুর এই নীতিমালার মাধ্যমে হাজার হাজার ভক্তদের ধর্মের জ্ঞান প্রদান করতেন।  শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নিয়ম অনুযায়ী ভক্তদেরকে প্রতিদিন  কমপক্ষে ষোল মালা হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ করা উচিত। ষোল মালা জপ করলে প্রায় আঠাইশ হজার বার হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নাম জপ করা হয় তাতে প্রত্যেক ভক্তে হৃদয় ও মন ভগবান শ্রী কৃষ্ণর সান্নিধ্য লাভ করা যায়। যদি প্রতিদিন ষোল মালা জপ করতে না পারে তাহলে কোন সমস্যা হয়না। কিন্তু  প্রতিদিন অন্তত সুনির্দিষ্ট সংখ্যকবার হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নাম জপ প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আাবশ্যক।

হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নাম মালা জপ করার সময় কারো নিদ্দেশ মানতে হয়না। শুধু পবিত্র মন এবং সঠিক স্থান নির্ধারণ করতে হবে। তবে মহামন্ত্র নাম মালা জপ করার আগে কোন একজন অভিজ্ঞ গুরুর দীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন তাতে সঠিক পদ্ধতিতে মালা জপে নিয়ম কানুন অনুশরণ করা যায়। যদিও কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ ইস্কন এর  ভক্তবৃন্দরা  প্রতিদিন কম পক্ষে ১৬ মালা জপ করে। আপনিও চাইলে সেই নিয়ম অনুস্মরণ করতে পারেন। কোন ভক্ত যদি শ্রী  কৃষ্ণকে মনের মধ্যে গেঁথে রাখতে চায় তাহলে অবশ্যই  প্রতিদিন হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র  নাম জপ করতে হবে। তবে প্রথ্যেক ব্যক্তি প্রতিদিন সকল বাধ্যবাধকতার মধ্যে কমপক্ষে ষোল মালা নাম জপ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মালা জপের নিয়ম

মালা জপের নিয়ম

হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নাম মালা জপের সময় উপর নীচের দুই ওষ্ঠ এবং জিহ্বার ক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপের সাথে এই ৩টি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অবশ্যই সক্রিয় থাকতে হবে। ‘হরে কৃষ্ণ’ ‘হরে কৃষ্ণ’ কৃষ্ণ’ কৃষ্ণ’ ‘হরে‘হরে এই  শব্দগুলো অবশ্যই স্পষ্ট ভাবে বলতে হবে যাতে ভালো ভাবে শোনা যায়। কেউ কেউ ‘হরে কৃষ্ণ’ ‘হরে কৃষ্ণ’ কৃষ্ণ’ কৃষ্ণ’‘হরে ‘হরে এই মন্ত্রটি সুস্পষ্ট ভাবে নাবলে খুব দ্রুত শেষ করে ফেলে,  তাতে সেই মালা জপ সঠিক হয়না। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ অত্যন্ত সহজ। তবে নিষ্ঠার সাথে এর অভ্যাস করতে হয়। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ অবশ্যই এই ভাবে করা উচিৎ তাতে উচ্চারণকারী নিজে এবং পাশের ভক্তগণ সে নাম শুনতে পায়।

জপমালার ব্যবহারের নিয়ম

মালা তৈরীর জন্য প্রধানত তুলসী গাছ ব্যবহার করা হয়। নিম গাছ বা বেলগাছ দিয়েও জপমলা তৈরী করা যায়। ডান হাত দিয়ে মালা জপ করতে হয়। জপ মালায় ১০৮ টি গুটি থাকে, প্রথমত একটি বড় গুটি থাকে তারপরে ছোট গুটি থাকে। বড় গুটি এবং ছোট গুটির সংযোগ স্থলে একটি বড় গুটি থাকে, যাকে মেরুগুটি বলা হয়। হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ শুরু করার অগে ডানহাত দিয়ে মেরুগুটি ধরে প্রথমে পঞ্চতত্ত্ব মন্ত্র জপ করতে হয় ( জয় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ, ঃ শ্রী অদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্ত বৃন্দ ঃ এই মন্ত্রটি অবশ্যই জপ করতে হবে। তারপর তর্জণী আঙ্গুলি স্পর্শ না করে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মাধ্যমে বড় দিকের প্রথম গুটিটি ধরে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে” সুস্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ করে জপ করতে হয়, যাতে নিজের কানে শোনা যায়। পুণরায় মেরুগুটি ধরে পঞ্চতত্ত্ব মন্ত্র বলতে হবে। এখন আপনার এক মালা জপ হয়ে গেল। আবার যখন মালা জপ এর শুরুর দিকের প্রথম গুটিটি ধরে পূর্বের মতো হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র মালা জপ করতে করতে ছোট থেকে বড়গুটির দিকে এগোবেন, মনে রাখবেন একটি গুটিতে যতক্ষণ পুরো হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ না হচ্ছে ততক্ষণ দ্বিতীয় গুটিতে এগোবেন না। এই ভাবে আপনি প্রতিদিন  ষোল মালা জপ করতে পারেন। নিয়মিত ষোল মালা  জপ করার অভ্যাস করলে আপনার কাছে সেটা সহজ হয়ে যাবে। যদি পারেন মালা জপের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার চেষ্ঠা করবেন।  জপমালা অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং পবিত্রতার সাতে ব্যবহার করবেন, মালাকে পরিস্কার জপ ব্যাগের মধ্যে রাখবেন। প্রতিদিন জপ ব্যাগে ময়লা হলে ভালো করে দিয়ে ধুয়ে দেবেন। জপমালা নিয়ে অপবিত্র জায়গা,বা বাথরুমে যাবেন না।

সমাপ্ত

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *