একাদশী

একাদশী কি? এর আবির্ভাব এবং মাহাত্ম্য । ব্রত পালনের নিয়মাবলী ।

Posted by

একাদশী কি?

একাদশী হচ্ছে চন্দ্র পক্ষের একটা তিথি। চাঁদের দুটি পক্ষ একটি শুক্লপক্ষ ও আরেকটি কৃষ্ণপক্ষ। চাঁদের পূণির্মা পর্য্যন্ত সময়কে শুক্লপক্ষ এবং আমাবশ্যা পর্য্যন্ত সময়কে কৃষ্ণপক্ষ বলা হয়। পনের দিনে এক পক্ষ সমাপ্ত হয় এই এক পক্ষের এক একটা দিনকে এক একটা তিথি বলা হয়। তিথিগুলোর নাম হল প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী এবং পূর্ণিমা অথবা অমাবশ্যা । হিন্দু ধর্মমতানুসারে একাদশীকে পুণ্যতিথি হিসেবে বিবেচনা করে একাদশী ব্রত পালন করা হয়। এদিন পূণ্য লাভের আশায় যে কেউ  একাদশী ব্রত পালন করতে পারেন। এসময় সাধারণত ফলমূল ও বিভিন্ন সবজি এবং দুধ খাওয়া যায়, তবে একাদশীতে পঞ্চরবি শস্য বর্জন করতে হয়। বিষ্ণুর শয়ন, পার্শ্ব পরিবর্তন ও উত্থান উপলক্ষে যথাক্রমে আষাঢ়, ভাদ্র ও কার্তিক মাসের শুক্লা একাদশী বিশেষ শুভপ্রদ গণ্য করা হয়। ভৈমী একাদশী ও মাঘের শুক্লা একাদশীকেও বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে প্রত্যেক একাদশী ব্রত পালনে শুভফল লাভ হয়। নিয়মিত একাদশী ব্রত পালন শরীরের পক্ষেও উপকারী। তাই স্বাস্থ্যগত কারণেও অনেকে প্রতি মাসে দুটি একাদশী ব্রত পালন করেন।

একাদশী আবির্ভাব এর মাহাত্ম্য

পদ্মপূরাণে একাদশী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে গুরুদেব! একাদশীর জন্ম কখন হয়েছিল? একাদশীর অধিষ্ঠাত্রী দেবতা কে? একাদশীতে কেন উপবাস করতে হয়? একাদশী ব্রত পালনে কি লাভ হয়? একাদশী ব্রত পালন না করলে কি ক্ষতি হয়? কখন এই ব্রত পালন করতে হয়। দয়া করে এই সব বিষয়ে আপনার কৃপা  বর্ষন করুন।

মহর্ষি ব্যাসদেব জৈমিনি ঋষির প্রশ্ন শুনে অপ্রাকৃত আনন্দধামে উন্নীত হয়ে  তখন বলতে লাগলেন “হে ব্রহ্মর্ষি জৈমিনি একাদশী পালনের ফল প্রকৃতরূপে পরমেশ্বর নারায়ণই শুধু এর মাহাত্ম্য শুদ্ধভাবে বর্ণনা করতে পারবেন, তবে আমি তোমার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রদান করব।”

সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু পঞ্চ মহাভূত দ্বারা স্থাবর ও অস্থাবর জীবগণকে এই জড় সংসারে সৃষ্টি করেন। মর্ত্যলোকবাসীদের শাস্তি প্রদানের জন্য একটি পাপপুরুষ সৃষ্টি করেন। সেই পাপপুরুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি নানা প্রকার পাপ কার্য দ্বারা সৃষ্ট। পাপপুরুষের মাথাটি ব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, চক্ষুদুটি নেশায় আশক্তিজনিত পাপ, মুখ ছিল স্বর্ণচৌর্যজনিত পাপ, দুই কর্ণ ণ্ডরুপত্নী উপগমন, দুই নাসিকা পরপত্নী হত্যা, দুই হাত গো-হত্যাজনিত পাপ, গ্রীবা পরধন চৌর্যজনিত পাপ, বক্ষদেশ ভ্রুণ হত্যাজনিত পাপ, নিম্নবক্ষ পরস্ত্রী উপগমন জনিত পাপ, উদর আত্মীয়স্বজন হত্যা পাপ, নাভিমূল অধীনস্থ জনকে হত্যা পাপ, কোমর আত্মশ্লাঘা পাপ, জংঘা ণ্ডরুনিন্দা জনিত পাপ, লিঙ্গ শিশু কন্যা বিক্রি জনিত পাপ, পশ্চাদ্দেশ ণ্ডপ্তকথা প্রকাশ করার পাপ, পদদ্বয় পিতৃ হত্যা পাপ, শরীরের কেশরাজি অন্যান্য পাপ কর্মাদি দ্বারা গঠিত।  যার শরীর ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, চোখ দুটি পীতবর্ণ। এভাবে একটি বীভৎস পাপপুরুষ সৃষ্টি করেছিলেন। সে পাপিদের কঠিন  শাস্তি দান করেন।

এই পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু মর্ত্যের মানব জাতির কল্যানের কথা চিন্তা করতে লাগলেন। তিনি চিন্তা করলেন আমিই জীবগণের সুখ ও দুঃখের স্রষ্টা, আমি তাদের প্রভু, আমিই জীবজগতের পালন কর্তা। আমি পাপপুরুষ সৃষ্টি করেছি সে প্রতারক পাপীষ্ট মানুষকে দুঃখ যন্ত্রনা প্রদান করে। এখন এই পাপপুরুষের নিয়ন্ত্রক সৃষ্টি করে পাপীদের অন্য ব্যবস্থা করতে হবে। এই সময় ভগবান শ্রীবিষ্ণু যমরাজ ও বিভিন্ন প্রকার নরক সৃষ্টি করলেন। মৃত্যুর পর পাপীদের যমরাজের নিকট পঠাতে হবে এবং তিনি তাদের পাপ বিচার করে বিভিন্ন নরকে যন্ত্রনা ভোগের জন্য পাঠিয়ে দিবেন। একদিন পক্ষীরাজ গরুড়ের পিঠে চড়ে পরমেশ্বর ভগবান যমরাজের গৃহে উপস্থিত হলেন। যমরাজ পরমেশ্বর ভগবানকে দেখেই  পাদ্য-অর্ঘ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে স্বর্ণ সিংহাসনে বসিয়ে যথাবিধি তাঁর পূজা করলেন। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু বসেই শুনতে পেলেন দক্ষিণ দিক থেকে অসংখ্য জীবের আর্তক্রন্দন ধ্বনি। তিনি তখন যমরাজকে প্রশ্ন করলেন-এ আর্তক্রন্দন কেন?

যমরাজ বললেন, হে প্রভু!, মর্ত্যের পাপী মানূষেরা নিজ কর্মদোষে নরকযন্ত্রনা ভোগ করছেন। সেই যাতনার আর্ত চীৎকার শোনা যাচ্ছে। ভগবান যন্ত্রনাকাতর পাপীদের দেখতে দক্ষিণ দিকের নরকে উপস্থিত হলেন। তাঁকে দেখে নরকবাসীগণ আরো অধিক উচ্চস্বরে চিৎকার করে করজোরে প্রার্থনা করতে লাগলেন “হে প্রভু আমাদেরকে এই নরকযন্ত্রনা থেকে রক্ষা করুন”। যন্ত্রণাকাতর পাপাচারী জীবদের দর্শন করে তাদের যন্ত্রনায় বিচলিত হয়ে করুণাময় ভগবান চিন্তা করলেন আমিই সমস্ত প্রজা সৃষ্টি করেছি, আমার সামনেই ওরা কর্ম দোষে নরক যান্ত্রণা ভোগ করছে, এখন আমিই এদের সদগতির ব্যবস্হা করব।

ব্যাসদেব বলতে লাগলেন “হে জৈমিনি শোন!” পরমেশ্বর ভগবান তারপর কি করলেন। করুনাময় পরমেশ্বর ভগবান পূর্বের বিচার কার্য পুনঃবিবেচনা করলেন। ভগবান শ্রীবিষ্ণু হঠাৎ পাপাচারীদের সামনে একাদশী রূপে এক দেবীমুর্তিতে আবির্ভুত হলেন। সেই পাপীদেরকে একাদশী ব্রত পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করিয়ে ব্রত আচরণ করালেন। একাদশী ব্রতের ফলে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ বৈকূণ্ঠ ধামে গমন করলেন।

শ্রীব্যাসদেব বললেন “হে জৈমিনি!” একাদশী পরমেশ্বর শ্রীবিষ্ণু ও পরমাত্মার বিগ্রহে প্রভেদ নেই। শ্রীহরির প্রকাশ এই একাদশী পালন অতীব শ্রেষ্ঠ কর্ম এবং সমস্ত ব্রতের মধ্যে উত্তম ব্রত। শ্রী একাদশী আবির্ভাবের কারনে পাপপুরুষ একাদশীর প্রতিকূল প্রভাব অনুভব করল। কিছুদিন পরে ভগবানের সৃষ্ট পাপপুরুষ এসে শ্রীবিষ্ণুর কাছে করজোড়ে কাতর হয়ে প্রার্থণা করতে লাগল। ভগবান শ্রীবিষ্ণু প্রসন্ন হয়ে তাকে বর দিতে চাইলেন। তখন পাপপুরুষ বললেন “হে ভগবান !” আমি আপনার প্রজা, আপনারই সৃষ্টি। আমাকে যারা আশ্রয় করে থাকে, তাদের কর্ম অনূযায়ী তাদের দুঃখ দান করাই আমার কাজ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি শ্রীএকাদশীর প্রভাবে আমি কিছুই করতে পারছি না, বরং আমার অস্তিত্ব দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কেননা একাদশী ব্রতের ফলে প্রায় সব পাপাচারীরা বৈকূণ্ঠের বাসিন্দা হযে যাচ্ছে। হে ভগবান, এখন আমার কি হবে? আমি কাকে আশ্রয় করে থাকব? আমার মৃত্যুর পর আপনার অংশগুলো যারা জড়দেহ ধারন করেছে তারা সবাই মুক্তিলাভ করে বৈকুন্ঠধাম প্রাপ্ত হবে। সবাই যদি বৈকূণ্ঠে চলে যায়, তবে এই মর্ত্য জগতের কি হবে? আপনি বা কার সঙ্গে এই মর্ত্যে ক্রীড়া করবেন? হে কৈটভনাশন, আমি একাদশীর ভয়ে মানুষ, পশু, কীট, পাহাড়, বৃক্ষ, স্থাবর ও জঙ্গম, নদী, সমুদ্র, জঙ্গল, স্বর্গ, মর্ত, নরক, দেবতা ও গন্ধর্বগণের নিকট আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছি । কিন্ত শ্রীএকাদশীর প্রভাবে কোথাও নির্ভয় স্হান পাচ্ছি না। হে ভগবান, এখন দেখছি, আপনার সৃষ্ট অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে শ্রীএকাদশীই প্রাধান্য লাভ করেছে, সেইজন্য আমি কোথাও আশ্রয় পাচ্ছি না। আপনি কৃপা করে আমাকে একটি নির্ভয় বাসস্থান প্রদান করুন যেখানে থাকলে শ্রীএকাদশীর প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারব।

ব্যাসদেব জৈমিনিকে বললেন “এইরূপ প্রার্থনা করে পাপপুরুষ পরমেশ্বর শ্রীবিষ্ণুর পাদপদ্মে নিপতিত হয়ে কাঁদতে লাগল।” পাপপুরুষের প্রার্থনা শুনে ভগবান শ্রীবিষ্ণু বললেন ‘হে পাপপুরুষ!’ তুমি দুঃখ করো না। আর কেঁদো না। একাদশীর দিন তোমার নিরাপদ আশ্রয় কোথায় হবে মন দিয়ে শোন। যখন শ্রীএকাদশী এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করতে আবির্ভুত হবে, তখন তুমি অন্ন ও রবিশস্যের মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করবে সেখানে আমার মুর্তি শ্রীএকাদশী তোমাকে বধ করতে পারবে না। এইরূপ বলে পরমেশ্বর শ্রীবিষ্ণু অন্তর্ধান হলেন এবং সেইদিন থেকে পাপপুরুষ শ্রীএকাদশী থেকে বাচার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেল।

শ্রীবিষ্ণুর আদেশে জর জগতে সকল প্রকার পাপকর্ম একাদশীর দিন খাদ্যশস্যের মধ্যে আশ্রয় গ্রহন করে। তাই পরম পুণ্য লাভের আশায় ব্যক্তিগণ একাদশীর দিন শস্য গ্রহন করেন না। একাদশী ব্রত পালন করলে সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্তিলাভ করা যায় এবং কখনো নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে হয় না। একাদশীর দিন এক দানা শস্য খেলে কোটি ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ হয়। একাদশী ব্রত যারা পালন না করে তারা তো পাপীর অধম। ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র সবাইকে একাদশী ব্রত পালন করা আবশ্যক। ইহাই শুদ্ধ বর্ণাশ্রমের ভিত্তি। একাদশী ব্রত পালন করলেই সর্বপাপ বিনাশ হয় ও বৈকুন্ঠধাম লাভ করা যায়।

সূর্যোদয়ের এক ঘন্টা ছত্রিশ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত দশমী বিদ্ধা বলা হয়। দশমী বিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করা কখনও উচিত নয়। এই সংসারে একাদশীর ন্যায় পবিত্র ব্রত আর নেই। যে ব্যক্তি একাদশী ব্রত পালন করেন না সে নরাধম , তার পরমগতি লাভ হয়না।

একাদশী পালনের নিয়মাবলী

একাদশীর মূল কাজ হল – নিরন্তর ভগবানকে স্মরণ করা । তাই আপনারা যে নিয়মে, যে সময়ে পালন করুন না কেন, ভগবানকে ভক্তিভরে স্মরণ করাই যেন আপনারই মূল কাজ হয় । আমরা একাদশী পালনের সাত্ত্বিক নিয়মটি উল্লেখ করছি । এটি পালন করা সবার উচিত ।

১। সমর্থ পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার ও দ্বাদশীতে একাহার করিবেন ।

২। তা হতে অসমর্থ পক্ষে শুধুমাত্র একাদশীতে অনাহার।

৩। যদি উহাতেও অসমর্থ হন, একাদশীতে পঞ্চ রবিশস্য বর্জন করতঃ ফল মূলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান রহিয়াছে।

সমর্থ পক্ষে রাত জাগরণের বিধি আছে, গোড়ীয় ধারায় বা মহান আচার্য্যবৃন্দের অনুমোদিত পঞ্জিকায় যে সমস্ত একাদশী নির্জলা ( জল ব্যতীত ) পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন । সেগুলি সেমতে পালন করলে সর্বোওম ফল লাভ হয় । নিরন্তর কৃষ্ণভাবনায় থেকে নিরাহার থাকতে অপারগ হলে নির্জলাসহ অন্যান্য একাদশীতে কিছু — সবজি, ফলমূলাদি গ্রহণ করতে পারেন । যেমন — গোল আলু , মিষ্টি আলু , চাল কুমড়ো, পেঁপে, টমেটো, ফুলকপি ইত্যাদি সবজি ঘি অথবা বাদাম তৈল দিয়ে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে আহার করতে পারেন । হলুদ, মরিচ, ও লবণ ব্যবহার্য । আবার অন্যান্য আহায্য যেমন — দুধ, কলা, আপেল, আঙ্গুর, আনারস, আখঁ, আমড়া শস্য, তরমুজ, বেল, নারিকেল, মিষ্টি আলু , বাদাম ও লেবুর শরবত ইত্যাদি ফলমূলাদি খেতে পারেন ।

একাদশীতে পাচঁ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছেঃ—

১। ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন – চাউল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েশ, খিচুড়ি, চাউলের পিঠা, খৈ ইত্যাদি

২। গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন – আটা, ময়দা, সুজি , বেকারীর রূটি বা সকল প্রকার বিস্কুট, হরলিকস্ জাতীয় ইত্যাদি ।

৩। যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন — ছাতু , খই , রূটি ইত্যাদি ।

৪। ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন — মুগ মাসকলাই, খেসারী, মসুরী, ছোলা অড়রহ, ফেলন, মটরশুটি, বরবঢী ও সিম ইত্যাদি ।

৫। সরিষার তৈল, সয়াবিন তৈল, তিল তৈল ইত্যাদি । উপরোক্ত পঞ্চ রবিশস্য যেকোন একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয় ।

উল্লেখ্য যারা সাত্ত্বিক আহারী নন এবং চা , বিড়ি / সিগারেট পান কফি ইত্যাদি নেশা জাতীয় গ্রহণ করেন, একাদশী ব্রত পালনের সময়কাল পর্যন্ত এগুলি গ্রহণ না করাই ভালো ।

একাদশী করলে যে কেবলমাত্র নিজের জীবনের সদ্ গতি হবে তা নয় । একাদশী ব্যক্তির প্রয়াত পিতা / মাতা নিজ কর্ম দোষে নরকবাসী হন, তবে সেই পুত্রই একাদশী ব্রত পালনে  পিতা – মাতাকে নরক থেকে উদ্ধার করতে পারে । একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে যেমন নরকবাসী হবে, অন্যকে ভোজন করালেও নরকবাসী হবে । কাজেই একাদশী পালন করা আমাদের সকলেরই কর্তব্য ।

একাদশী পারণঃ (একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙ্গার নিয়ম ) পঞ্জিকাতে একাদশী পারণের (উপবাসের পরদিন সকালে ) যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে, সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা একান্ত দরকার । নতুবা একাদশীর কোন ফল লাভ হবে না । একাদশী ব্রত পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস করা নয়, নিরন্তর শ্রীভগবানের নাম স্মরণ, মনন, ও শ্রবণ কীর্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয় । একাদশী পালনের দিন পরনিন্দা , পরিচর্চা, মিথ্যা ভাষণ, ক্রোধ দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ ।

বিঃ দ্রঃ নিমোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়ঃ

একাদশী ব্রতের আগের দিন রাত ১২ টার আগেই অন্ন ভোজন সম্পন্ন করে নিলে সর্বোওম । ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাঁশ করে দাঁত ও মুখ গহব্বরে লেগে থাকা সব অন্ন পরিষ্কার করে নেওয়া সর্বোওম । সকালে উঠে শুধু মুখ কুলি ও স্নান করতে হয়।

একাদশীতে সবজি কাটার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোথাও কেটে না যায় । একাদশীতে রক্তক্ষরণ বর্জনীয় । দাঁত ব্রাশঁ করার সময় অনেকের রক্ত ক্ষরণ হয়ে থাকে, তাই একাদশীর আগের দিন রাতেই দাঁত ভালো ভাবে ব্রাশঁ করে নেওয়াই সর্বোওম ।

একাদশীতে চলমান একাদশীর মাহাত্ন্য ভগবদ্ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণ অথবা সম্ভব না হলে নিজেই ভক্তি সহকারে পাঠ করতে হয় ।

যারা একাদশীতে একাদশীর প্রসাদ রান্না করেন, তাদের পাচঁ ফোড়ঁন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিৎ। কারণ পাঁচ ফোড়ঁনে সরিষার তৈল ও তিল থাকতে পারে যা বর্জনীয় ।

একাদশীতে শরীরে প্রসাধনী ব্যবহার নিষিদ্ধ । তৈল ( শরীরে ও মাথায় ) সুগন্ধি সাবান শেম্পু ইত্যাদি বর্জনীয় ।

সকল প্রকার ক্ষৌরকর্ম — শেভ করা এবং চুল ও নক কাটা নিষিদ্ধ ।

একাদশীর পারন মন্ত্র
একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব।
প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞান দৃষ্টি প্রদো ভব।।
– এই মন্ত্র পাঠ করে নির্দিষট সময়ের মাঝে পালন করতে হয়।

আরো পড়ুন: শুভ জন্মাষ্টমী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব     ।।       শ্রী কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম